নবীন গবেষক হিসেবে মামুন সিদ্দিকী

Comilla Vasa Shoinikজাহাঙ্গীর আলম ইমরুল,কুমিল্লা।।বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে বরাবরের মতো এবারও অনক লেখক-গবেষকের বই এসেছে ‘অমর একুশের গ্রন্থ মেলা’য়। এমনই একটি বই ‘কুমিল্লায় ভাষা আন্দোলন’। লিখেছেন মামুন সিদ্দিকী।

নবীন গবেষক হিসেবে মামুন সিদ্দিকী ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে বেশ প্রসংশা কুড়িয়েছেন, তেমনি এবারের বই মেলায় প্রকাশিত ‘কুমিল্লায় ভাষা আন্দোলন’ এ বইটির মধ্যদিয়ে খানিকটা সমালোচনাও অর্জন করেছেন।

মামুন সিদ্দিকীর এ বইয়ে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ উঠেছে। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনে কুমিল্লায় অন্যতম নেতৃত্বদানকারী তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি, প্রবীণ রাজনীতিবীদ ভাষাসৈনিক অ্যাডভোকেট আহাম্মদ আলী নবীন গবেষক মামুন সিদ্দিকীর এ গবেষণার তীব্র সমালোচান করেছেন। সেই সাথে সংশোধনেরও দাবি জানিয়েছেন।

অ্যাডভোকেট আহাম্মদ আলী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের তৎকালীন তুখোড় ছাত্র নেতা ছিলেন চট্টগ্রামের বদরুল হুদা চৌধূরী। মামুন সিদ্দিকীর গবেষণায় উঠে এসেছে বায়ান্ন সালে ভাষা আন্দোলনে বদরুল হুদা চৌধূরীই নাকি কুমিল্লার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং ৫ মার্চে টাউন হল মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভার সভাপতিত্ব করেছিলেন! তিনি বলেন, অবাক হয়েছি মামুন সিদ্দিকীর গবেষণা দেখে।

অ্যাডভোকেট আহাম্মদ আলী বলেন, মামুন সিদ্দিকী নাকি গবেষণার ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম গিয়ে বদরুল হুদা চৌধূরীর সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন। তিনি নাকি তাঁর সাক্ষাতে মামুন সিদ্দিকীকে এমন কথাই বলেছিলেন! আর তা’ই মামুন সিদ্দিকী এই তথ্য তার গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন!

অথচ তিনি (বদরুল হুদা চৌধূরী) ১৯৫১ সালে বিএ পরীক্ষা দিয়ে তাঁর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে চলে যান। বায়ান্ন সালে তিনি কুমিল্লাতেই ছিলেন না।’

বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনে কুমিল্লার প্রকৃত ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে অ্যাডভোকেট আহাম্মদ আলী বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের শ্রষ্টা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্ষেত্রে শ্রষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম। উভয়েই কুমিল্লার সন্তান।

তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনটির একটা সাংগঠনিক কাঠামো ছিলো। এটার নাম ছিলো সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। এর একটি কেন্দ্রিয় কমিটি ছিলো এবং এর শাখা জেলা, মহকুমা এবং থানা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো। সে সময় এর নেতৃত্বে ছিলো আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ। ফলে কুমিল্লাও এই ধারার বাইরে ছিলো না।

মামুন সিদ্দিকীর ‘কুমিল্লায় ভাষা আন্দোলন’ শীর্ষক গবেষণামূলক গ্রন্থটির কারণে স্থানীয় ইতিহাসে এ প্রসঙ্গে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।

অ্যাডভোকেট আহাম্মদ আলী বলেন, বায়ান্ন সালে আমি ছিলাম তদানিন্তন ত্রিপুরা (বর্তমানে বৃহত্তর কুমিল্লা) জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। থাকতাম পুরাতন চৌধুরী পাড়ার প্যারাডাইস (বর্তমানে বিলুপ্ত) হোস্টেলে। ফেব্র“য়ারি মাসের প্রথম দিকে লাকসামের এমএলএ অধ্যাপক নুরুর রহমানের ছোট ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাবিবুর রহমান রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রিয় আহ্বায়ক কাজী গোলাম মাহবুবের একটি চিঠি নিয়ে আমার হোস্টেলে আসেন। চিঠি পেয়ে সে রাতেই ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে সভা করি।

আহাম্মদ আলী বলেন, ছাত্রলীগ সভাপতি হিসেবে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক পদটি আমারই প্রাপ্য। ফলে তা’ই হয়। অতঃপর পরদিন সকালে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যডভোকেট আবদুর রহমান খানের বাসভবনে গিয়ে তাঁকে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক করে জেলা কমিটি গঠন করি। এখান থেকেই চলে যাই কলেজে। এখানে ক্ষমতাসীন মুসলীগ লীগ পন্থী কলেজ ছাত্র সংসদের সম্পাদক সিরাজুল ইসলামকে পদাধিকার বলে কলেজের আহ্বায়ক করতে প্রস্তাব করলে তিনি রাজি হন। কলেজ সংগ্রাম পরিষদও গঠন করি।

আহাম্মদ আলী বলেন, এগুলো ছিলো নামে মাত্র। আসল ছিলো আবদুর রহমান খানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি। আর এ সুবাদে ৫মার্চ প্রতিবাদ দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে অনুষ্ঠিত সভার সভাপতি ছিলেন আবদুর রহমান খান।

ওই সভা সমাপ্ত হওয়ার সাথে সাথে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সভাস্থল ঘিরে ফেলে এবং আবদুর রহমান খানসহ পনের জনকে গ্রেপ্তার করে। যার মধ্যে চৌদ্দ বছরের মসি এবং মাইক অপারেটর শাহ আলমও ছিলো।

অ্যাডভোকেট আহাম্মদ আলী বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের এই অংশটুকু খুব গুরুত্ব পূর্ণ ছিলো। কিন্তু মামুন সিদ্দিকীর গ্রন্থটি প্রকাশের পর দেখা গেলো এই অংশটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এ গবেষণার ফলে ভাষা আন্দোলনে কুমিল্লার স্থানীয় আন্দোলনের মধ্যমনি আবদুর রহমান খানের ইতিহাস বিলুপ্ত হয়ে গেলো। একারনে আমি দুঃখ ভারাক্রান্ত।

তিনি বলেন, মামুন সিদ্দিকীর এ লিখা দেখে কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত প্রাচীণতম সংবাদপত্র সাপ্তাহিক আমোদ-এ একটা প্রতিবাদ লিপি পাঠাই। প্রতিক্রিয়াটি প্রকাশের পর মামুন সিদ্দিকী তার লেখার স্বপক্ষে কয়েকটি পত্রিকার সূত্র উল্লেখ্য করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে বায়ান্নতে বদরুল হুদা চৌধূরী কুমিল্লা জেলে ছিলেন। ব্যাপারটা আমার জন্য খুবই বিব্রতকর হয়ে দেখা দেয়। কারণ আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার করি কিভাবে? আবার পত্রিকার খবরও অস্বীকার করা যায় না।

আহাম্মদ আলী বলেন, এ অবস্থায় সে সময়কার কারাবরণকারী কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানা যায় বদরুল হুদা চৌধূরী কুমিল্লা জেলে এসেছিলেন চট্টগ্রাম থেকে। এতেই বুঝযায় তিনি (বদরুল হুদা চৌধূরী) কুমিল্লায় নয়, চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হন। আর রাজবন্দিদের একমাত্র স্থান কেন্দ্রিয় কারাগার। কুমিল্লা কারাগারটি তৎকালীন চট্টগ্রাম বিভাগের কেন্দ্রিয় কারাগার। সে হিসেবে রাজবন্দি হয়েই তাঁর (বদরুল হুদা চৌধূরী) এখানে আগমন।

আহাম্মদ আলী বলেন, আবারও আমোদ-এ লিখলাম। আর এই লেখালেখিটা আমার জন্য খুবই অস্বস্তিকর হয়ে দেখা দেয়। কারণ মামুন আমার খুবই স্নেহভাজন। এ অবস্থায় মামুনের রচিত গ্রন্থের ‘ভুল তথ্যটি তার নিজের নয়’ উল্লেখ করে অতি সহজেই সংসোধনটা করা যায়। আমার ধারনা ছিলো মামুন বিতর্কিত ও ভুল অংশটুকু সংশোধন করে প্রকৃত ইতিহাসটি লিপিবদ্ধ করবেন। মামুন সিদ্দিকীর মতো গবেষকধর্মী প্রতিভার কাছে এমনটিই প্রত্যাশিত।

সবশেষে আহাম্মদ আলী পুরো ব্যাপারটা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি তিনি স্মরণ করিয়ে দিতেও ভুলেযাননি যে, ‘আজকে মামুন সিদ্দিকীর কাছে যেটা ইতিহাস সেটা তাঁর (আহাম্মদ আলীর) ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।’

আহাম্মদ আলী দু:খ করে বলেন, কিন্তু কী কারণে আমার প্রদত্ত তথ্য সম্পূর্ণ গ্রহণ করতে না পেরে তার গ্রন্থে জেলা সংগ্রাম কমিটি সম্বন্ধে সিদ্ধান্তহীনতা প্রকাশ করেছেন বোধগম্য নয়। ফলে রাষ্ট্রভাষার স্থানীয় (কুমিল্লায়) আন্দোলনটা কাঠামোহীন হয়ে পড়েছে। ইতিহাসের প্রয়োজনে এটা খুবই গুরুত্ব বহন করে।

তিনি বলেন, কিন্তু মামুন সিদ্দিকীর ‘কুমিল্লায় ভাষা আন্দোলন’ গ্রন্থে সঠিক ইতিহাসিটি না থাকায় সেটি অসম্পূর্ণ রয়েছে, যা গবেষণাধর্মী গ্রন্থের জন্য প্রত্যাশিত নয়। কারন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ভাষা আন্দোলনের গবেষণায় মামুন সিদ্দিকীর এ গবেষণাটি অনুসরন করবে। এ ব্যাপারেও বিবেচনার দাবি রাখে। সুতরাং আমি আসা করবো মামুন সিদ্দিকী খোলা মনে ব্যাপারটি বিবেচনা করবেন।

এদিকে নিজের গবেষণাকে ভূল মানতে রাজিনন গবেষক মামুন সিদ্দিকী। এ বিষয়ে জানতে কথা বলি মামুন সিদ্দিকীর সাথে (মেবাইল ফোনে)। ফোনালাপ কালে প্রথমেই তিনি তার ‘কুমিল্লায় ভাষা আন্দোলন’ বইটি পড়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আমার এই বইটি মূলত: ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়, ১২ বছর পর এবার এটির পূণঃমূদ্রণ হয়েছে মাত্র। যেখানে আমার দেয়া তথ্য উপাত্য সবই অপরিবর্তিত রয়েছে।

মামুন সিদ্দিকী বলেন, ‘এখানে আহাম্মদ আলী সাহেব যে বিষয়টি বলতে চান এখানে দু’টো বিষয়। তা হলো ভাষা আন্দোলনের পরপর অর্থাৎ ২১ ফেব্র“য়ারির পরে ২৭ ফেব্র“য়ারি একটি সভা হয়। যে সভায় আওয়ামীগের সেক্রেটারী আব্দুর রহমান খান সভার সভাপতিত্ব করেছিলেন এবং সে সভা থেকে তিনিসহ আরো অনেকে গ্রেপ্তার হন। সেখানে সিরাজুল ইসলামসহ আরো অনেকেই ছিলেন। বিষয়টি আমি অনেকের সাথে আলপ করে লিখেছি। পরবর্তীতে ৭ দিন পর ৫ মার্চ আরেকটি সভা হয় সেখানে সভাপতিত্ব করেন বদরুল হুদা চৌধূরী। সে সভা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

মামুন সিদ্দিকী বলেন, ‘কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে এখানে, আহাম্মদ আলী ঘটনাটা সঠিক বলেন, কিন্তু তারিখটা সঠিক বলেন না। আসলে সে ঘটনাটা ৫ তারিখ না। মানে, উনি (আহাম্মদ আলী) যে ঘটনাটা বলতে চান তা আমিও বলি, তিনি বলেন ৫ তারিখ (৫মার্চ) আমি (মামুন সিদ্দিকী) সেটা বলি ২৭ তারিখ (২৭ ফেব্র“য়ারি)।’

মামুন বলেন, ‘আমি বলেছি (লিখেছি) ২৭ তারিখের সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন আব্দুর রহমান খান এবং সেখান থেকে তিনি গ্রেপ্তার হন। আর ৫ তারিখ সভাপতিত্ব করেছিলেন বদুরুল হুদা চৌধূরী। এ বিষয়ে পত্র পত্রিকার রিপোর্ট আছে। আহাম্মদ আলী সাহেব বলতে চান ৫ তারিখ আব্দুর রহমান খান সভাপতিত্ব করেছেন। কিন্তু আব্দুর রহমান খান তো ২৭ তারিখ গ্রেপ্তার হয়েগেছেন।’

মামুন সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখালেখি শুরু করেছি ১৯৯৯ সালে এর আগে কয়েকজন (স্থানীয়) সাংবাদিক লিখেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- নাছির উদ্দিন (প্রথম আলো প্রতিনিধি ছিলেন), সৈয়দ নূরুর রহমান (যায়যায়দিন প্রতিনিধি ছিলেন) এবং নূরুর রহমান (বর্তমানে একুশে টেলিভিশনে)। তিন জনের লিখা তিনটি রিপোর্টে ভাষা আন্দোলনে কুমিল্লায় কোন কমিটি হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেননি।’

মামুন বলেন, ‘এরও আগে আহাম্মদ আলী সাহেব ভাষা আন্দোলন নিয়ে অনেক স্মৃতিচারণমূলক লেখা লিখেছেন। সেখানেও তিনি সে দাবি করেননি যে -ভাষা আন্দোলনে কোন কমিটি গঠিত হয়েছিলো এবং সেখানে তিনি আহবায়ক ছিলেন। কিন্তু আমার বই বের হওয়ার পর তিনি (আহাম্মদ আলী) দাবি করলেন -ভাষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন সর্বদলীয় জেলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক আর সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ছিলেন আব্দুর রহমান খা। এ বষিয়গুলোর কোন দলিলপত্র নেই।’

মামুন সিদ্দিকী বলেন, ‘আরেকটি বিষয় হচ্ছে- তিনি (আহাম্মদ আলী) বলেন ‘তিনি ছিলেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের জেলা শাখার আহবায়ক, আর সিরাজুল ইসলাম চৌধূরী ছিলেন ভিক্টোরিয়া কলেজ শাখার আহবায়ক।’ কিন্তু সিরাজ সাহেব বলেছেন ‘অসম্ভব, আমি ছিলাম জেলা শাখার আহবায়ক।’ মানে আহাম্মদ আলী সাহেব যাকে স্বাক্ষী মানেন সেই স্বাক্ষী তাকে ভূল প্রমাণিত করেন।’

২০০৮ সালে টাউন হল কর্তৃপক্ষের দেয়া ভাষাসৈনিকদের সংবর্ধনা উপলক্ষে প্রকাশিত একটি সোভেনিরকে উদাহরণ হিসেবে এনে মামুন সিদ্দিকী বলেন, ‘সেই সম্মেলণ উপলক্ষে যে সোভেনিরটা বের হয় সেখানে সংবর্ধিত ভাষাসৈনিকদের সবার জীবনী আছে। সিরাজুল ইসলাম সাহেব ওখানেই বলেছেন -তিনি ছিলেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভাষা সৈনিক অ্যাডভোকেট আহাম্মদ আলী সাবেক সদস্য বাংলাদেশ গণপরিষদ, সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতি, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ত্রিপুরা (পরবর্তীতে বৃহত্তর কুমিল্লা-নোয়াখালী) জেলা ছাত্রলীগ, সাবেক সভাপতি কুমিল্লা জেলা আওয়ামীলীগ, মুক্ত কুমিল্লা জেলার প্রথম প্রশাসক। এছাড়াও তিনি একজন লেখক হিসেবে পরিচিত। ইতিমেধ্যই তাঁর লেখা কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে।

পরিশিষ্ট: ফোনালাপকালে মামুন সিদ্দিকী এক পর্যায়ে বলেছেন -‘ভাষা আন্দোলনে কোন কমিটি গঠণ হয়েছে, এমন কোন প্রমান মেলেনি।’ এখন যদি মামুন সিদ্দিকীর এ কথাকেই সঠিক ধরে ‘সিরাজুল ইসলাম এবং আহাম্মদ আলীর মধ্যে সংগ্রাম পরিষদের কে জেলা শাখার আহবায়ক, আর কে কলেজ শাখার আহবায়ক’ সে বিতর্ক যদি বাদও দিই তবুও একটি প্রশ্ন থেকে যায় -সেদিন ভাষা আন্দোলনে কোন সংগ্রাম কমিটিই যদি গঠিত না হয়ে থাকবে, তাহলে মামুন সিদ্দিকী ২০০৮ সালের যে সোভেনির এর উদাহরণ টেনে সিরাজুল ইসলামের লিখায় ‘তিনি সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক’ দাবির কথা বললেন সেটিরও কতোটা ভিত্তি আছে?

-অননিউজ/সম্পাদনা/এস,বি/২৭ ফেব্রুয়ারী ১৫