হত্যার স্বীকারোক্তি রনির, ছাড় নেই- বললেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

indexঅননিউজ ডেস্ক।।সাংসদ পুত্র বখতিয়ার আলম রনি রাজধানীর ইস্কাটন এলাকায় দুজনকে গুলি করে হত্যার কথা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে তিনি আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হননি। আর তাই প্রয়োজনে তাকে আবারো রিমান্ডে আনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

তবে, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন ছাড় দেয়া হবে না। এদিকে উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলো চেয়ে আছে হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দিকে।

বছর সাতেক আগে নদীভাঙ্গনে সব হারিয়ে তিন সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন হাকিমের বাবা। একটু ভালো করে বাঁচার আশায় ছেলেকে দিয়েছিলেন রিকশা চালানোর কাজে।

ঘটনার দিন বিকেল বেলা রিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর রাত তিনটার দিকে খবর আসে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন হাকিম। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখেন হাকিম তখনো বেঁচে। ছটফট করছেন যন্ত্রণায়। কিন্তু ভোরের আলো ফোটার আগেই শেষ হয়ে যায় সব।

হাকিমের মা বলেন, এমপির ছেলে বলে কি আমার ছেলেকে হত্যার বিচার পাবো না? আমার ছেলের তো কোনো অপরাধ না করেই জীবন গেলো।’

এদিকে, ঘটনার দুই মাস পর হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা সাংসদ পুত্র রনিকে গ্রেপ্তারের পর দুই দফা রিমান্ডে নিলেও এখনো দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়নি সে। যদিও গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলছেন, গুলি ছোঁড়ার কথা তাদের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে বখতিয়ার আলম রনি।

গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সে আমাদের কাছে অপরাধ স্বীকার করেছেসে আদালতে জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।  আমরা এ ব্যাপারে আরও কিছু তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছিসাক্ষ্য-প্রমাণের সাপেক্ষে আমরা পুনরায় তাকে রিমান্ডের জন্য আবেদন করবো।’

রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অপরাধী যতোই প্রভাবশালী হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। জোড়া খুনের ঘটনায় পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছে বলেও জানান তিনি।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, তার আত্মীয় সাংসদ হোক, প্রতিমন্ত্রী হোক বা মন্ত্রী হোক- অন্যায় করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

দ্বিতীয় দফায় চারদিনের রিমান্ড শেষে শনিবার আদালতের নির্দেশে রনিকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

অননিউজ/সম্পাদনা/রাজিব বণিক/১৪ জুন ১৫