নীরবে কাজ করলে বলে পুলিশ কোনো কাজই করে না_____

চট্টগ্রামে আইজিপি...........

image_1575_241313অনলাইন ডেস্ক: দেশজুড়ে চলমান জঙ্গিবিরোধী বিশেষ অভিযানকে কিছু পত্রিকা নেতিবাচক-ভাবে দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। তিনি বলেন, ‘পুলিশ কাজ করলেও সমস্যা, না করলেও সমস্যা।নীরবে কাজ করলে বলে, পুলিশ কোনো কাজই করে না,পুলিশ ব্যর্থ। আর পুলিশ যখন সরবে কাজ করে তখন বলে, ঢাকঢোল পিটিয়ে কাজ করছে। এগুলো আসল কাজ করার জন্য করছে না। তা হলে আমরা যাব কোথায়?’
গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন শুটিং ক্লাবে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমার কথা হলো, পুলিশ তো বিভিন্ন কৌশলে কাজ করবে। প্রকাশ্যে-গোপনে করবে। নানাভাবে করবে। এগুলো পুলিশের কর্মকৌশল।’
অভিযানের নামে ‘গ্রেপ্তার-বাণিজ্য’ হচ্ছে—বিএনপিসহ বিভিন্ন মহল থেকে ওঠা এই অভিযোগের বিষয়ে আইজিপি বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া একটা লোককেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরিষ্কার নির্দেশ দেওয়া আছে, কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘কোনো নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা হলে আমাকে তথ্য দিন। আমি আমার অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের সমালোচনা করে আইজিপি বলেন, ‘আমাদের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান জিজ্ঞেস করলেই হুট করে কথা বলে ফেলেন। উনি তথ্য না নিয়ে, না বুঝে, না শুনে হুট করে কমেন্ট (মন্তব্য) করে ফেলেন। আজকের (গতকালের) পত্রিকায় উনার কমেন্ট দেখুন। পুলিশ নাকি গ্রেপ্তার-বাণিজ্য করছে।’ তিনি বলেন, ‘কাজ করলে সামান্য ত্রুটি থাকতেই পারে। ঢালাও অভিযোগ করলে পুলিশ কাজে উৎসাহ পাবে না।’

তবে আইজিপির এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গতকাল রাতে মুঠোফোনে বলেন, ‘আইজিপির বক্তব্য অশোভনীয়। উনি আমার বক্তব্য পুরো পড়েননি। আমি বলেছি, গ্রেপ্তার-বাণিজ্যের একটি আশঙ্কা রয়ে গেছে। পুলিশ গ্রেপ্তার-বাণিজ্য করছে, এমন কোনো প্রসঙ্গ আমার বক্তব্যে ছিল না।’ মিজানুর রহমান বলেন, ‘এখন যে পরিস্থিতি তাতে কে কী বলছে, তা নিয়ে চিন্তিত না হয়ে এ অবস্থা থেকে উত্তরণে তাঁর (আইজিপি) প্রচেষ্টা নেওয়া উচিত।’

চট্টগ্রামের সুধী সমাবেশে দেওয়া বক্তৃতায় পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আইজিপি শহীদুল হক বলেন, ‘এটি জঙ্গিরা করেছে কি না, এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না। তদন্তে সময় লাগবে। পুলিশের দায়িত্ব হত্যাকারীদের ধরা। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

জঙ্গিবাদ নির্মূলে জনগণের সহযোগিতা চেয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক। সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সম্পর্কে যেকোনো ধরনের তথ্য পুলিশকে দিতে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। জঙ্গি, চোরাকারবারিদের তথ্য দিন পুলিশকে। তথ্যদাতার নাম প্রকাশ করা হবে না। তথ্যদাতার নাম আমার স্ত্রীকেও আমি কখনো বলিনি।’

নগর পুলিশের কমিশনার মো. ইকবাল বাহারের সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার রুহুল আমীন, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, প্যানেল মেয়র জোবাইরা নার্গিস, চট্টগ্রাম রেঞ্জের মহাপুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ সালাম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি মঈন উদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার প্রমুখ।

অতীতে এ দেশকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ২০১৩ সালে ১৫ জন পুলিশ নিহত হয়েছে। রাজনৈতিক আন্দোলনের নাম দিয়ে সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিলেন তাঁরা। যাদের জনসম্পৃক্তা নেই তারা পরাজিত হবেই।

সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে জেমবি ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিম কাজ করছে। আনসারুল্লাহ এখন আনসার আল-ইসলাম নামে কাজ করছে। পাবনা, গাইবান্ধা, ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এগুলো দেশীয় জঙ্গিবাদের উত্থান। এর পেছনে অনেক ষড়যন্ত্র রয়েছে, এগুলো খুঁজে বের করা হবে।

এদিকে গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে আইজিপি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি যেকোনো মূল্যে মাহমুদা হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন।

-অননিউজ/সম্পাদনা/তাহমিমা খান/১৩জুন’ ১৬ইং