প্রক্সি দেয়ায় জাবিতে ঢাবি শিক্ষার্থীর ছয় মাসের জেল

Arrested_for_given_proxy_from_JUস্বপ্ন ক্যাম্পাস দাপিয়ে বেড়ানো। সবার ওপর রাজত্ব করা। আর এর জন্য প্রয়োজন ছাত্রলীগের একটি পদ। তাই খুব সহজ উপায়ে বড় ভাইদের কাছে থেকে কাঙ্ক্ষিত সেই পদের লোভে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের (বি ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান। তবে ঢাবিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় রাকিবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। কিন্তু বিধিবাম, রাকিবুল আটক হলেও প্রক্টরিয়াল টিমের দায়িত্বে অবহেলার কারণে পালিয়ে যেতে পেরেছেন চক্রের অন্য সদস্যরা। এর আগেও এরকম বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় রাকিবুলকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাভারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণব কুমার ঘোষ ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারায় এ রায় দেন।

প্রবেশপত্রের ছবির সাথে চেহারা না মেলায় প্রথম শিফট চলাকালে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ভবনের ১নং কক্ষ থেকে রাকিবুলকে প্রক্টরিয়াল টিমের হাতে তুলে দেন দায়িত্বরত শিক্ষক। তিনি জয়নুল আবেদিন নামে এক শিক্ষার্থীর পরিবর্তে পরীক্ষা দিতে আসেন। রাকিবুল বিশ্ববিদ্যালয়েল বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং তার বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার রণছড়া গ্রামে।

এ বিষয়ে প্রণব কুমার ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, তার সাথে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও তিনজন এসেছে। সে প্রথমে আদালতকে ভুল তথ্য দিয়েছে। তার আচরণ ছিল অন্যান্য চক্রদের নিয়ে দাঙ্গা ঘটানোর। তার সঙ্গে অনেক বড় চক্র জড়িত। তার ফেসবুক মেসেঞ্জার থেকে অনেক তথ্য পেয়েছি। সে চেষ্টা করেছিল তার বয়স ১৮’র নিচে রাখার জন্য যাতে সে কিশোর অপরাধী হিসেবে কম সাজা পায়। তার সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন মহিলা কলেজের অনেকে জড়িত। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকি জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।

এর আগে আটকের পরই প্রক্টরিয়াল টিম প্রক্টর অফিসের সামনে টিএসসির একটি কক্ষে তাকে আটক করে রাখে। কিন্তু আটক থাকা অবস্থায় জালিয়াত চক্রের মূল সদস্যরা রাকিবুলের সাথে দেখা করে যান এবং তাকে ছাড়িয়ে নেয়ার আশ্বাসও দেন চক্রের অন্য সদস্য ঢাকা কলেজের ছাত্রলীগ নেতা ও অর্থনীতি বিভাগের স্নাতকত্তোরের শিক্ষার্থী আক্তারুজ্জামান হিরণ এবং জগন্নথ বিশ^বিদ্যালয়ের সাইফুল ইসলাম। (এ ঘটনার প্রমাণ হিসেবে একটি অডিও ক্লিপ এই প্রতিবিদকের কাছে রয়েছে)। প্রক্টরিয়ার টিমের আওতাধীন থাকা অবস্থায় কীভাবে জালিয়াত চক্র তার সাথে দেখা করে গেল তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সন্দেহ। এ ঘটনায় প্রক্টরিয়াল টিমের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরবর্তী সময়ে প্রক্টরিয়াল টিম বিষয়টি টের পেলে একজন গার্ডকে রুমের বাইরে পাহারায় রাখে। এর আগেও প্রক্টরিয়াল টিমের অদক্ষতার কারণে জালিয়াত চক্রকে আটক করার পরও পালিয়ে যায়। এছাড়াও গত কয়েক বছরে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হলেও মূল হোতারা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এ বিষয়ে জানতে সহকারী প্রক্টর মাহবুবুল মোর্শেদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ‘এখন ব্যস্ত আছি’ বলে ফোন কেটে দেন।

এদিকে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণ করার অভিযোগ উঠেছে সহকারী প্রক্টর ও প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মাহবুবুল মোর্শেদের বিরুদ্ধে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও দোকানদারদের সাথে অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে এই সহকারী প্রক্টরের বিরুদ্ধে।

-অননিউজ /সম্পাদনা/ জেনিফার পলি /১৬অক্টোবর’২০১৭