‘রাজধানীর ৯৬ শতাংশ বাসে ভাড়া নৈরাজ্য’

image-55870রাজধানীতে ৯৬ শতাংশ বাস-মিনিবাসে সিটিং সার্ভিসের নামে যাত্রীরা নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছেন। ভাড়া নৈরাজ্য ও পিকআওয়ারে দরজা বন্ধ করে বাসচলাচলের কারণে মাঝপথের যাত্রীরা রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে-পুড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ি পাচ্ছেন না। এছাড়া একই দূরত্বে একেক বাসে একেক হারে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে যাত্রী দুর্ভোগের এই চিত্র। ‘সিটিং সার্ভিসের নামে নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে করণীয়’ শীর্ষক এ  গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

আলোচনায় অংশ নেন গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ উদ্দীন আহমেদ, বিআরটিএ এর সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান, সিটিং সার্ভিসের নৈরাজ্য বন্ধে সরকার গঠিত কমিটির সদস্য বিশিষ্ট সাংবাদিক অজয় দাশ গুপ্ত প্রমুখ।

বিআরটিএ এর সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান বলেন, ‘বিআরটিএ’র আইনে সিটিং সার্ভিস বলতে কিছুই নেই। মালিকরা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে এসব বিষয় আবিষ্কার করেছে।’ ভাড়া নির্ধারণে যাত্রীস্বার্থ প্রাধান্য দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের জিডিপির ৩৭ শতাংশ ঢাকা থেকে উৎপাদিত হয়, অথচ ঢাকা যানবাহনের গতি দিনদিন কমছে এই কারণে জাতীয় উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। তাই গণপরিবহনকে প্রাধান্য দিতে হবে। সিটিং সার্ভিস ও লোকাল সার্ভিস উভয়ের নৈরাজ্য ও হয়রানি বন্ধ না হলে ব্যক্তিগত গাড়ি বাড়তে থাকবে।’

সিটিং সার্ভিসের নৈরাজ্য বন্ধে সরকার গঠিত কমিটির সদস্য বিশিষ্ট সাংবাদিক অজয় দাশ গুপ্ত বলেন, ‘আমরা জানি মালিক-শ্রমিক মানে তেল আর পানি, তারা কখনো এক হওয়ার নয়। কিন্তু পরিবহন সেক্টরে মালিক-শ্রমিকনেতারা তাদের কায়েমি স্বার্থের জন্য দুধ আর পানি হয়ে যায়। এতে যাত্রী হয়রানি ও ভাড়া নৈরাজ্য বাড়ে।’ যে প্রক্রিয়ায় বাস ভাড়া এত বেশি বাড়ানো হয়েছে এর জন্য আমাদের মালিক-শ্রমিক-আমলা-মন্ত্রী সবাইকে দায়ী করেন তিনি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীর যাত্রীরা বাস-মিনিবাসে সিটিং সার্ভিসের নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছে। আবার সিটিং সার্ভিস গাড়ির গায়ে লিখে সরকার নিধার্রিত ভাড়ার দিগুণ, তিনগুণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাঁচ গুণ পর্যন্ত। বাড়তি ভাড়া আদায়ের পাশাপাশি বাদুরঝোলা করে যাত্রীও বহন করা হচ্ছে।’

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘একদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য, অন্যদিকে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, তথা এইসব সিটিং গাড়িতে দাঁড়িয়ে যাত্রী বহনের কারণে যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের সাথে প্রায়েই বচসা, হাতাহাতি-মারামারি ঘটনাও ঘটছে। কিছুদিন যাত্রীরা প্রতিবাদ করলেও প্রশাসন, মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, বিআরটিএ বা পুলিশ কারো কোনো সহযোগিতা না পেয়ে এক সময় এই নৈরাজ্যের কাছে যাত্রীরা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হচ্ছে।’

মোজাম্মেল বলেন, ‘সর্বনিম্ন ভাড়া তিন কিলোমিটার পর্যন্ত বড় বাসে সাত টাকা, মিনিবাসে পাঁচ টাকা হলেও নগরীতে চলাচলরত ৯৬ শতাংশ বাস-মিনিবাস অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের সাথে জড়িত। তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়া বা সর্বনিম্ন ভাড়া কিছুই মানেন না। নামমাত্র কিছু বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয় না।’

গোলটেবিল আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম তালুকদার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্নয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমূখ।

– অননিউজ ২৪/মোঃ এমদাদুল হক রনি/০৫ নভেম্বর’২০১৭