ইসির পরীক্ষা রংপুরে: মোশাররফ

image-57922রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ নির্বাচনকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পরীক্ষা হিসেবে দেখার কথা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিও করেছেন তিনি।

রবিবার দুপুরে রাজধানীতে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪১ তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনায় এসব কথা বলেন মোশাররফ।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘রংপুরসহ স্থানীয় নির্বাচনগুলোকে আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এই নির্বাচন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য পরীক্ষা হিসেবে নিচ্ছি।’

দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, এই দাবিতে অটল বিএনপি বর্তমান সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া নির্বাচন কমিশনেরও বিরোধী। তাদের দাবি, এই কমিশন নিরপেক্ষ নয়।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে যেসব নির্বাচন হয়েছে তার মধ্যে আলোচিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জিতেছে বিএনপি। আর আগমী ২১ ডিসেম্বর ভোট হবে রংপুর সিটি করপোরশন নির্বাচনে। সেখানে আওয়ামী লীগ বর্তমান মেয়র শরফুদ্দীন আহমেদ ঝণ্টুকে, জাতীয় পার্টি মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তফাকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা হতে পারে সোমবার।

রংপুরের ভোট নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রমাণের সুযোগ বলে মনে করছেন মোশাররফ। জাতীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনকে এখন থেকেই তৎপর হতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমাদের সামনে নির্বাচন একটি বড় সংকট। এ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে এখন থেকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দিতে হবে।’

বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে সরকার অলিখিত বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে দেশে জঙ্গল আইন কায়েম করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন মোশাররফ।

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি জিতবে দাবি করে গত ১২ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দীর সমাবেশকে এর নমুনা বলে বর্ণনা করেন বিএনপি নেতা। সমাবেশে বাস, লঞ্চসহ সব বন্ধ করার পরও জনজোয়ার হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এ জনজোয়ার আর থামান যাবে না।’

ভাসানীকে স্মরণ না করা আ. লীগের ইতিহাস বিকৃতি

আলোচনায় বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতা। তার দাবি, আওয়ামী লীগ নিজেই ইতিহাস বিকৃতি করে এখন অন্যকে ‘ছবক’ দিচ্ছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বরাবরই বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির জন্য অভিযুক্ত করে আসছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব প্রামাণ্য ঐহিত্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর এই অভিযোগটি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগ।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দিতে চেয়েছিল এবং এ জন্যই ৭ মার্চের ভাষণকে নিষিদ্ধ করেছিল বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাদের।

এই অভিযোগের জবাবে বিএনপি নেতা মোশাররফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা ভাসানী। অথচ তার কথা স্মরণ করে না তারা! ভাসানীকে স্মরণ না করা কি ইতিহাস বিকৃতি না?’।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘ ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে মওলানা ভাসানীই প্রথম আসসালামু আলাইকুম বলে পাকিস্তানকে বিদায় জানিয়েছিলেন। ১৯৭০ সালে কারাগার ভেঙে শেখ মুজিবকে মুক্ত করে আনার নির্দেশ দিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন ভাসানী। অথচ তারা (আওয়ামী লীগ) ভাসানীকে স্মরণ করে না।’

‘এসব অবদানের কথা যারা স্বীকার করে না তারাই আজ ইতিহাস বিকৃতি না করার স্লোগান তুলেন।’

সরকার রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ ধ্বংস করে দিয়েছে মন্তব্য করে মোশাররফ বলেন, ‘ভাসানী থাকলে আজ বিচার বিভাগের ওপর এমন আঘাত করতে পারতো না সরকার।’

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

– অননিউজ/সম্পাদনা/জেনিফার পলি/ ১৯ই নভেম্বর