বেচা-কেনার ধুম পরেছে পিরোজপুরের মার্কেট গুলোতে

Pirojpur Eid Bazar=1পিরোজপুর প্রতিনিধি।।  আর মাত্র ঈদের কয়েকদিন বকি। শেষ মুহুর্তে বেচা-কেনার ধুম পরেছে পিরোজপুরের মার্কেট গুলোতে। জেলা সদরের ক্লাব রোড়ে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, শেরেবাংলা পাবলিক মার্কেট গোপাল কৃষ্ণ মার্কেট, জেপি মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড়ে পা ফেলানোর জো নেই । এ ছাড়া কাপুড়িয়া পট্টি,আয়শা প্লাজার জুতার মার্কেট ও চুড়ি পট্টিতেও রয়েছে ভিড়ে ঠাসা। ব্যাতিক্রম রয়েছে স্বর্নের দোকান গুলোতে। সেখানে নেই ভিড় নেই তেমন বেচা-কেনা।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদে নতুন পোষাক কিনতে আসা গৃহবধু সুরাইয়া জানান, বৃষ্টি হলেও কেনা-কাটা তো করতেই হবে। গত বারের চেয়ে এবার বেশ দাম দিয়ে কেনা কাটা করতে হচ্ছে। তবে পছন্দসই পোষাক গুলো অনেক মার্কেট ঘুরে কিনতে হচ্ছে। ক্রেতা সবুজ জানান, জেলার মার্কেট গুলোতে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য দোকান নেই। তার পরেও জেপি মার্কেটের জামান ফ্যাশন কিছু পছন্দ মত পোশাক এনেছে। তাদের কাছ থেকে পাঞ্জাবি, শার্ট ও প্যান্ট কেনা হয়েছে। জামান ফ্যাশনের স্বত্বাধীকারি জামান বলেন, বেচা-বিক্রি বেশ ভালোই হচ্ছে। এবার ক্রেতাদের চাহিদা রয়েছে অনেক।

শাড়ি,থ্রী-পিচ,পাঞ্জাবি,শার্টসহ বাচ্চাদের পোশাকের জন্য রয়েছে পিরোজপুর বস্ত্রালয়। এখান থেকে সৌখিন ক্রেতারা একদরে কিনতে পারছে। আর এ কারনে দোকানে দেখা গেছে প্রচুর ভিড়। এ দোকানের ক্রেতা তানিয়া জানান, একদরে কিনতে পেরে সস্তি বোধ করছেন। দামেও অন্য দোকানের চেয়ে কম মনে করছেন তিনি।

বাহারি নানান নামের তরুনিদের পোশাক এবার বেশ নজর কেড়েছে। মানব পুতুলগুলোর শরীরে চড়িয়ে সেসব থ্রী-পিচ প্রদর্শননেরও ব্যাবস্থা করা হয়েছে। এবার পাখি, কারিনা,জুহি চাওলা, গঙ্গা, মাধবী প্রভৃতি নামের পোশাকগুলো নজর কাড়া। প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ২ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। কিনতে আসা ক্রেতা দিনা জানান,ঈদের কেনাকাটার সময় বেশি লাগে পরিবারের জন্য । পরিবারের সবার জন্য কিছু না কিছু কিনতেই হয়। একাধীক বার মার্কেটে আসতে হয়। এ নিয়ে তিনি তিন বার মার্কেটে এসেছেন।

দোকানিরা জানান, সকালের দিকে নারী ও তরুনিরা বাজারে আসছেন;তেমনি পুরুষরা ভিড় করছেন ইফতারির পর থেকে রাত ১০টা ১১টা পর্যন্ত।

সল্প আয়ের ক্রেতার ভিড় করছেন কাপুড়িয়া পট্টির মাকের্ট গুলোতে। সেখানে কম দামের পোশাক মিলছে। তাদের চাহিদা মত টি-শার্ট, প্যান্ট শার্ট প্রভৃতি কিনে নিচ্ছেন। এ মার্কেটের ক্রেতা খাদিজা বলেন, আমাদের আয় কম আমরা ওই সব বড় মার্কেটে বেশি দামের জন্য যাই না। এখানে আমাদের সাধ্য মত কেনা কাটা করছি।

হাসপাতাল সড়কে রয়েছে বাটিক-বুটিকের দোকান, পিছনে রয়েছে কারখানা। এখানের থ্রী-পিচের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। এ বুটিক হাউজের স্বত্বাধীকারি নাছিমা আক্তার জানান, বাটিক- বুটিকের থ্রী-পিচের চাহিদা থাকলেও বৃষ্টি কারনে চাহিদা অনুাযায়ী তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এখানের থ্রী-পিচের ঢাকা,খুলনা, বরিশালে চাহিদা রয়েছে বলে তিনি জানান। এদিকে জুতার দোকানের দোকানিরা জানিয়েছেন, ক্রেতারা জুতা কেনা শুরু করেনি। তবে জুতা দেখার জন্য ক্রেতারা ভিড় করছেন। স্বর্ণের দোকানের দোকানিরা জানিয়েছেন, স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন আর ক্রেতারা গহনা কিনছেন না।

– অননিউজ/সম্পাদনা: এস আর/২৩জুলাই১৪